২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

জমিয়াত-বিএনপির ঐতিহাসিক নির্বাচনী সমঝোত: মোবারকবাদ

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ
আপলোড সময় : ২৩-১২-২০২৫ ০৩:৫১:৫৭ অপরাহ্ন
জমিয়াত-বিএনপির ঐতিহাসিক নির্বাচনী সমঝোত:  মোবারকবাদ

বিএনপির সাথে আজ আসন সমঝোতা করেছে দেশের প্রচীণতম রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। আমি মনে করে এটি তাদের একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলেও পথ হারাবে না বাংলাদেশ। এটি কোনভাবেই কাম্য ছিল না এদেশে ইসলামপন্থীদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে একা ফেলে দেয়া। 

বিএনপি ইসলামপন্থী ছাড়া বাম জোট বা বলয়ে চলে যাবে। এমন হলে বিএনপি আবার আওয়ামী লীগের মতো ইসলামবিরোধী একটি শক্তিতে রূপ নিতে। এখন জমিয়ত সাথে থাকায় এই সম্ভবনা একেবারেই নেই। তাই আমি মনে করি এটি একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয়।



সংবাদ-সংক্রান্ত ছবি

জমিয়ত যদিও বিশাল ছাড় দিয়ে মাত্র ৪টি আসন নিয়েছে, এই চারটি আসনেই বিজয় লাভ করা সম্ভব হবে বলে বিশ্লেষকগন মনে করছেন। বিএনপির সাথে সমঝোতা ছাড়া রাজনীতিতে যেকোন মেরুকরণেই জমিয়ত যোগ দিত, একটি আসন পাওয়া মুশকিল ছিল।  জমিয়তের চারজন এমপি জাতীয় সংসদে বিএনপির সাথে থাকলে কোন প্রকার ইসলাম বিরোধী আইন করা বা বিল পাস করা সম্ভব হবে। জোড়ালো প্রতিবাদ হবে এই চার আলেম প্রার্থীর পক্ষ থেকে।

বিএনপি যদি ইসলামপন্থী ছাড়া একক নির্বাচন করতো, আর বাম জোট ও গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সাথে জোট করে ক্ষমতায় আসে তাহলে দলটি ক্রমশ ইসলামি চেতনা থেকে দূরে সরে যেত। বরং আজ জমিয়তের সাথে সমঝোতায় দলটি চারটি মৌলিক ইসলামী নীতি বাস্তবায়নের কথা বলেছে।
১. সংবিধানে আল্লাহর উপর পূর্ন আস্থা ও বিশ্বাসকে বহাল করা
২. ক্ষমতায় গেলে কোন ইসলাম বিরোধী আইন না করা।
৩. কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সরকারী শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেয়া। 
৪. ইমাম মোয়াজ্জিনকে সরকারি ভ্রাতা প্রদান করা।

একসময় এই রকম মৌলিক কয়েকটি বিষয়ে একমত হয়ে আওয়ামী লীগের সাথে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস শায়খুল হাদীস আল্লামা আজীজুল হক রহ. এর সাথে নির্বাচনী সমঝোতা করেছিল। রাজনৈতিক বিবেচনায় সেটি যদি দোষের না হয়, আজকে এসে জমিয়তের এই ঐতিহাসিক সমঝোতাও কোন দোষের নয়। 

মনে রাখতে হবে, ইসলামি মূল্যবোধই হলো বিএনপির রাজনীতির অন্যতম প্রধান বুনিয়াদ। কাজেই বিএনপির রাজনীতি পরিপূর্ণ দক্ষিণপন্থী না হলেও দক্ষিণপন্থার ওপর ভিত্তি করে রাজনীতি গড়ে উঠেছে। এটি থেকে বিএনপি আজ জমুয়তের কারণে দূরে সরে যায় নি। এই চেতনা,থেকে বিএনপি দূরে সরে গেলে পথ হারাতো বাংলাদেশ। এটি হতো ইসলামপন্থীদের জন্য রাজনৈতিক আত্মঘাতি। বিএনপি কখনো আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী আচরণ করবে না। দলীয়ভাবে আদর্শগতভাবেও বিএনপির মধ্যে সেই ধরনের দমন-পীড়নের মানসিকতা নেই, এই কারণে জমিয়ত নেতারা বিএনপির পাশে থাকলে ইসলামপন্থীদের উপকার না হলেও অপকার হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। 

এছাড়া চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান থেকেও বিএনপি শিক্ষা নেবে। তারা জাতীয় সরকার ও সবাইকে নিয়ে দেশ গঠনের পথেই হাঠবে বলে মনে হয়।বিএনপির জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থায়িত্বের যে জায়গা, সেটা হলো তাকে ইসলামপন্থীদের সঙ্গে, ইসলামপন্থীদের আনুকূল্য নিয়েই বিএনপিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবস্থান করা। অন্যথা হলে সেটা বিএনপির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে। আজ জমিয়তের সাথে রাজনৈতিক সমঝোতা করে বিএনপিও তাদের সেই ভিত ও অবস্থানকে আরেকটু শক্তিশালী করলো। তাদের চিরচেনা ইসলামী মূল্যবোধের চেতনা ও আর্দশকে বহাল রাখলো।  ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ও জমিয়তের আসন সমঝোতা একটি ঐতিহাসিক পেক্ষপট। মেবারকবাদ বিএনপি ও জমিয়তকে রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়ার জন্য।

সংবাদ-সংক্রান্ত ছবি

 

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ 
(লেখক, গবেষক ও বহুগ্রন্থপ্রনেতা)
সম্পাদক
ন্যাশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমক

 



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ